স্বাস্থ্য ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এখন হৃদরোগ। বয়স ত্রিশের কোঠা পেরোনোর আগেই অনেকের ধমনিতে ব্লকেজ ধরা পড়ছে। চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করছেন—সময় থাকতে হৃদয়ের যত্ন নিন। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে হাসপাতালে গিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করানো সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। এমন অবস্থায় ঘরে বসেই কয়েকটি সহজ পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে হার্টের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

জানুন, বাড়িতেই করা যায় এমন তিনটি কার্যকর পরীক্ষা ও কিছু সতর্ক সংকেত, যা একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।

পালস পরীক্ষা

হৃদপিণ্ড প্রতি মিনিটে কতবার স্পন্দিত হচ্ছে, সেটিই হার্ট রেট। সাধারণভাবে বিশ্রাম অবস্থায় হার্ট রেট প্রতি মিনিটে ৬০–১০০ বিট।
নিজের হার্ট রেট জানতে—

বাঁ হাতের কবজির ভেতরে, বুড়ো আঙুলের নিচে ডান হাতের দুই আঙুল রাখুন। স্পন্দন টের পেলে ১০ সেকেন্ড গুনে নিন এবং সংখ্যাটি ৬ দিয়ে গুণ করুন—এটাই হবে প্রতি মিনিটের হার্ট রেট।

যদি বিশ্রামের সময় হার্ট রেট ১০০-এর বেশি বা ৬০-এর নিচে হয় (আপনি যদি পেশাদার অ্যাথলিট না হন), তবে এটি হৃদযন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

‘স্টেয়ার টেস্ট’ বা সিঁড়ি ওঠা পরীক্ষা

হৃদয়ের সক্ষমতা যাচাইয়ের সহজ উপায় এটি। টানা চারতলা বা প্রায় ৬০ ধাপ সিঁড়ি একবারে উঠে দেখুন আপনি কেমন অনুভব করেন।
যদি ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব না করেন, তাহলে সাধারণত হার্ট ভালোভাবে কাজ করছে।

কিন্তু যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুক টানটান লাগে, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি হয়—তাহলে এটি রক্তপ্রবাহে সমস্যা বা হার্ট ব্লকেজের ইঙ্গিত হতে পারে। দেরি না করে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

স্মার্টওয়াচ বা মোবাইল অ্যাপ দিয়ে মনিটরিং

প্রযুক্তির কল্যাণে এখন স্মার্টওয়াচ বা স্মার্টফোন অ্যাপ দিয়েই হার্ট রেট ও রিদম মাপা সম্ভব।
অনেক উন্নত ডিভাইস এমনকি অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (AF) শনাক্ত করতেও সক্ষম।

তবে মনে রাখবেন, এসব তথ্য কেবল প্রাথমিক ধারণা দেয়। অস্বাভাবিক রিডিং দেখা গেলে বা বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি ইত্যাদি অনুভব করলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

যেসব সতর্ক সংকেত অবহেলা করবেন না

বুকের মাঝ বরাবর চাপ বা জ্বালাভাব

বুক ধড়ফড় করা বা হঠাৎ দ্রুত স্পন্দন

হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া

বিশ্রাম অবস্থায়ও শ্বাসকষ্ট

মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি

এসব যে কোনো একটি লক্ষণই হতে পারে করোনারি আর্টারি ব্লকেজের প্রাথমিক সতর্কবার্তা।

হার্ট সুস্থ রাখতে করণীয়- বিশেষজ্ঞদের মতে,

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম,

কম তেল–লবণযুক্ত খাবার,

ধূমপান ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা
— এই অভ্যাসগুলো হৃদয়কে দীর্ঘদিন সুরক্ষিত রাখে।

এছাড়া ৪০ বছরের পর থেকে বছরে অন্তত একবার ইসিজি বা স্ট্রেস টেস্ট করানো জরুরি বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।